সুনামগঞ্জ , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৭০০০ মে. টন ডিজেল সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় একটি সেতুর প্রতীক্ষায় কয়েক প্রজন্ম শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতায় বাড়ছে দুশ্চিন্তা আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ : সংকটে হাওরাঞ্চলের কৃষি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুরে মোটরসাইকেল চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান শহরে অর্ধ কোটি টাকার স্বর্ণ ও ডলার চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৫ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, সূচি প্রকাশ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে যুবকের ওপর হামলা প্রতিবন্ধী কৃষকের জমির ধান কেটে নেওয়া ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অপ্রয়োজনীয় স্থানে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন, কাজে আসেনি তালগাছ প্রকল্পও আগাম বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা : হাওরের পাকা ধান দ্রুত কর্তনের অনুরোধ বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি : ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী

বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

  • আপলোড সময় : ১০-০২-২০২৬ ০৭:৪৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০২-২০২৬ ০৭:৪৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ফসলরক্ষা বাঁধ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রতি বছর বোরো মৌসুম এলেই লাখো কৃষকের চোখ থাকে এই বাঁধের দিকে- সময়মতো কাজ হবে কি না, বাঁধ টিকবে কি না। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ এখন উন্নয়ন নয়, বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতীক হয়ে উঠছে। সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে- বাঁধ নির্মাণে সময়মতো কাজ শুরু না হওয়া, নি¤œমানের নির্মাণ, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, পিআইসি গঠনে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। চলতি অর্থবছরে সুনামগঞ্জ জেলায় ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৭০২টি পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও যদি কাজের গতি ধীর হয়, কৃষকরা প্রকল্প স¤পর্কে জানতেই না পারেন, প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড ও পরিদর্শন বই না থাকে, তবে প্রশ্ন উঠবেই, এই অর্থ কার স্বার্থে ব্যয় হচ্ছে? সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অক্ষত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধেও প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যার ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, গো-চারণভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। কাবিটা নীতিমালার মূল দর্শন ছিল, প্রকৃত কৃষকদের সম্পৃক্ত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই নীতিমালা অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। গণশুনানি হচ্ছে লোকদেখানো, পিআইসি গঠন হচ্ছে পরিবারকেন্দ্রিক ও প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি পুরোপুরি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। বিশেষ করে দুদকের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো চিহ্নিত করে টেকসই নির্মাণ, পরিকল্পিত নদী খনন, প্রয়োজন অনুযায়ী স্লুইচ গেট স্থাপন এবং কাবিটা নীতিমালা সংশোধনী ২০২৩-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখন আর বিলাসিতা নয় - এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা মনে করি, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ শুধু মাটির দেয়াল নয়; এটি লাখো মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। এখানে অবহেলা মানে একটি অঞ্চলের অর্থনীতি, পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। তাই এখনই সময় দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার, কঠোর নজরদারির এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের। হাওর বাঁচলে দেশ বাঁচবে - এই সত্য উপলব্ধি করেই বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বছর একই অভিযোগ, একই ক্ষতি আর একই হাহাকার আমাদের তাড়া করতেই থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স